যুবসাথীর ২য় কিস্তি একাউন্টে ঢুকছে? আবেদনকারীদের জন্য বড় আপডেট – WB Yuba Sathi 2nd Payment 2026
যুবসাথী নিয়ে বিরাট সুসংবাদ। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কবে পাচ্ছেন? প্রথম কিস্তির পাইনি তাদের কবে? আজকের এই প্রতিবেদনে আরও বিস্তারিত জেনেনিন
WB Yuba Sathi 2nd Payment 2026: রাজ্যের বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হিসেবে স্থান পেয়েছে যুব সাথী প্রকল্প। যদিও এর আগে রাজ্য সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হিসেবে খ্যাতিনামা পেয়েছে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প। তবে এই প্রকল্প কিন্তু অনেকটাই লক্ষীর ভান্ডার এর মতই। পার্থক্য শুধু এখানে বেকার যুবক-যুবতী অর্থাৎ মাধ্যমিক পাস শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। আর লক্ষীর ভান্ডারের ক্ষেত্রে কোন রকম শিক্ষাগত যোগ্যতা আবশ্যিক নয়। তবে বয়স হতে হবে ২৫ বছর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কিন্তু যুব সাথী প্রকল্পে বয়স থাকতে হবে নূন্যতম ২১ বছর সর্বাধিক ৪০ বছর।
যদিও প্রথমদিকে যুব সাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এর প্রথম কিস্তির টাকা এপ্রিল মাস থেকে দেওয়া হবে কিন্তু সেই সময় আর বিলম্ব না করে তাপরাই একমাস এগিয়ে নিয়ে এসে ঘোষণা করেন মার্চ থেকেই টাকা পাবেন সকলে। অনেকেই ইতিমধ্যে টাকা পেয়েও গেছেন,যাকে প্রথম কিস্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। এরকম অনেকেও আছে যাদের এখনো পর্যন্ত প্রথম কিস্তির অর্থাৎ মার্চ মাসের পেমেন্ট ক্রেডিট হয়নি। এদিকে খবর শোনা যাচ্ছে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা নাকি এপ্রিল মাসের মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে ক্রেডিট হতে চলেছে।
ভোটের মুখে যুবসাথী প্রকল্প :
ভোটের মুখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেকার যুবক যুবতীদের এই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে কিছুটা হলেও নিজের দিকে টানতে চাইছেন তিনি। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি এর ফলে ভোট ব্যাংকেও এর প্রভাব পড়তে পারে। যুব সাথী প্রকল্প মূলত রাজ্য সরকারের অধীনে ২০২৬ সালে অভিনব এক প্রকল্প যার মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতিমাসে পনেরশো টাকা পাবেন।সব থেকে বড় কথা হল এই প্রকল্পের টাকা প্রতি মাসে ক্রেডিট হবে এবং আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত চালু থাকবে এমনটাই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন।
এদিকে খবর পাওয়া যাচ্ছে এপ্রিল মাসে অর্থাৎ দ্বিতীয় কিস্তির টাকা নাকি অনেকের একাউন্টে ক্রেডিট হচ্ছে। যদিও এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যুব সাথী টাকা এখন থেকে প্রতিমাসে ক্রেডিট হতে থাকবে। তবে অনেকেই রয়েছেন এখনো পর্যন্ত প্রথম কিস্তির টাকা পাননি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সব ঠিকঠাক থাকলে অর্থাৎ আবেদন ঠিকঠাকভাবে পূরণ হলে এবং সে যদি যোগ্য হয় তাহলে অবশ্যই তার যুব সাথীর ভাতা ক্রেডিট হয়ে যাবে।
যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন করতে কি কি যোগ্যতা থাকতে হয়
যদি আপনি যুব সাথী প্রকল্পের সুবিধা নিতে চান তাহলে আপনাকে কমপক্ষে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সের একজন বেকার যুবক অথবা যুবতী হতে হবে। এছাড়াও আপনাকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বৈধ একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং কোনরকম সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বা মাসিক কোন ভাতা পেলে এই প্রকল্পের আওতায় তারা থাকবেন না।
যুবসাথী প্রকল্পের উদ্দেশ্য
সম্প্রতি এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, যারা চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন মূলত তাদের জন্যই এই প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছে। প্রতিমাসে পনেরশো টাকা দিয়ে তাদের পড়াশোনার খরচ থেকে চাকরির আবেদন এমনকি ইন্টারভিউ এর প্রস্তুতির জন্য এই টাকা দেওয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত বেকার যুবক যুবতীরা আপাতত এই আর্থিক সুবিধা পাবেন এবং তারা যাতে এর মধ্যে পড়াশোনার খরচ চালাতে পারেন সে দিক লক্ষ্য রেখে এই প্রকল্প আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক জনসভায় এও বলেন যে যারা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন কিন্তু টাকা পাননি, তারা প্রত্যেকেই টাকা পাবেন। এদিন তিনি আরো জানান যারা ইতিমধ্যে টাকা পেয়েছেন তারাও টাকা পেতে থাকবেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাও জানিয়েছেন যে, ‘যারা যুব সাথী প্রকল্পে নথিভুক্ত হয়েছেন, ভবিষ্যতে তাদের কর্মসংস্থানে সাহায্য করা হবে’। সব মিলিয়ে বলা যায় রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প ভোটের আগে মাস্টার্স স্ট্রোক হতে চলেছে।
কিভাবে যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করা যায়?
যুব সাথী যেহেতু প্রথম ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল, এক্ষেত্রে দুই ভাবেই আবেদন করার সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি পোর্টালে গিয়ে আবেদন করেছিলেন এবং অনেকেই আবার দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অফলাইন মাধ্যমে আবেদনপত্র জমা করেছিলেন। ভবিষ্যতে ঠিক একইভাবে এর আবেদন গ্রহণ হতে পারে এমনটাও জানা যাচ্ছে।
অনেকে টাকা পেতে দেরি হচ্ছে কেন :
বিশেষ করে যারা অফলাইন মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন তাদের ডাটা অনলাইনে তুলতে হচ্ছে এবং জেলা স্তরে বা ব্লক স্তরে তাদের নথি যাচাই করা হচ্ছে। প্রচুর আবেদনপত্র জমা পড়ায় সরকারি আধিকারিকগণের এই কাজ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে যারা বৈধ এবং সঠিকভাবে আবেদন করেছেন তাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রত্যেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে যাবেন।




