দেশজুড়ে কোটি কোটি কৃষক একটাই অপেক্ষায় রয়েছেন, কবে তারা ২৪তম প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনা টাকা পেতে চলেছে। অবশেষে তাদের জন্য এল একটি দারুণ সুখবর। আর অপেক্ষা নয়, এবার ফের একাউন্টে ঢুকতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনা টাকা। তবে কিছু কাজ রয়েছে যা না করলে এবারের টাকা আপনি পাবেন না।সেই কাজ কিভাবে করতে হবে? কবে পাবেন অ্যাকাউন্টে এই টাকা? আসুন ধাপে ধাপে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক
গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে আমাদের রাজ্যের হুগলির তারকেশ্বরে এক সরকারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৩তম কিস্তি বাবদ প্রায় ১৮,৮৮০ কোটি টাকা সারা দেশের ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। এর আগে ২২তম কিস্তি ছাড়া হয়েছিল ১৩ মার্চ ২০২৬-এ। সেই হিসেবে চার মাসের স্বাভাবিক চক্র মেনে চললে ২৪তম কিস্তির টাকা কয়েকদিনের মধ্যে ঢুকবার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। নিচে সম্পূর্ণ বিস্তারিত তথ্য ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো, যাতে আপনি নিজের স্টেটাস চেক করা থেকে শুরু করে আপনার ওই সমস্যা আছে কিনা সবকিছু সহজে বুঝে নিতে পারেন।
PM Kisan 24th Installment – এক নজরে
| বিষয় বস্তু | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| যোজনার নাম | প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা (PM-KISAN) |
| যোজনা শুরু | ফেব্রুয়ারি ২০১৯ |
| বার্ষিক সহায়তা | ₹৬,০০০ (তিনটি সমান কিস্তিতে) |
| প্রতি কিস্তির পরিমাণ | ₹২,০০০ |
| এখন পর্যন্ত জারিকৃত কিস্তি | ২৩টি |
| ২৩তম কিস্তির তারিখ | ২০ জুন ২০২৬ |
| ২৪তম কিস্তির সম্ভাব্য সময় | অক্টোবর-নভেম্বর ২০২৬ (অফিসিয়াল ঘোষণা বাকি) |
| পেমেন্টের মাধ্যম | ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT), আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | pmkisan.gov.in |
কিস্তি কীভাবে দেওয়া হয়?
অনেকে মনে করেন সরকার যে কোনো তারিখেই এই কিস্তির টাকা প্রদান করে থাকেন। তবে ঘটনা কিন্তু তাই নয়। এর পেছনে রয়েছে বিরাট এক রহস্য –
| সময়কাল | সম্ভাব্য কিস্তি প্রাপ্তির মাস |
|---|---|
| এপ্রিল থেকে জুলাই | প্রথম কিস্তি |
| অগাস্ট থেকে নভেম্বর | দ্বিতীয় কিস্তি (২৪তম কিস্তি এই চক্রের মধ্যে পড়ছে) |
| ডিসেম্বর থেকে মার্চ | তৃতীয় কিস্তি |
কেন এখনও তারিখ ঘোষণা হয়নি?
সত্যি বলতে, সরকার প্রতিবারই কিস্তি ছাড়ার ঠিক আগে আগে তারিখ ঘোষণা করে থাকেন, কোনো নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার আগে থেকে প্রকাশ করে না। এর পেছনে কারণ হতে পারে উপভোক্তাদের যাচাই প্রক্রিয়া চলছে, eKYC সম্পন্ন হয়েছে কিনা এবং জমির রেকর্ড আপডেট করার মতো প্রশাসনিক কাজ কতদূর, যা সময়সাপেক্ষ হয়ে থাকে। তাই যাঁরা বারবার “কবে আসবে টাকা” জানতে ইন্টারনেটে সার্চ করছেন, তাঁদের বলব — অফিসিয়াল ঘোষণার আগে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা অযাচাইকৃত খবরে বিশ্বাস না করাই ভালো।
PM Kisan Beneficiary Status কীভাবে চেক করবেন
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার কিস্তির স্টেটাস জানতে চাইলে নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন —
- প্রথমে PM Kisan-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট pmkisan.gov.in-এ যেতে হবে।
- হোমপেজে থাকা “Know Your Status” অপশনে যেতে হবে।
- প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।
- রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা কোড পূরণ করতে হবে।
- মোবাইলে আসা OTP দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।
- এরপর স্ক্রিনে আপনার সম্পূর্ণ পেমেন্ট স্টেটাস দেখতে পাবেন।
নতুন কৃষকদের জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া
যারা এই যোজনায় এখনও যুক্ত হননি, তারা নিচের ধাপে ধাপে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
| ধাপ | কী করতে হবে |
|---|---|
| ধাপ ১ | pmkisan.gov.in ওয়েবসাইটে যেতে হবে |
| ধাপ ২ | হোমপেজে “New Farmer Registration” অপশন বেছে নিতে হবে |
| ধাপ ৩ | নিজের অবস্থা অনুযায়ী সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে। |
| ধাপ ৪ | চাওয়া তথ্য পূরণ করে নিজের রাজ্য বেছে নিতে হবে |
| ধাপ ৫ | ক্যাপচা কোড দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে |
| ধাপ ৬ | মোবাইলে আসা OTP দিয়ে ভেরিফিকেশন করতে হবে |
| ধাপ ৭ | প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে |
eKYC না করলে আটকে যেতে পারে কিস্তি
গত কয়েকটি কিস্তিতে দেখা গিয়েঋে, যাঁদের eKYC অসম্পূর্ণ রয়েছিল বা আধার-ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংযুক্তিতে সমস্যা হয়েছিল, তাঁদের টাকা আটকে গিয়েছিল। তাই ২৪তম কিস্তির আগে নিজের eKYC ঠিক আছে কিনা সেটা একবার অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে “eKYC” ট্যাবে ক্লিক করতে হবে
- আধার নম্বর দিয়ে OTP-র মাধ্যমে ভেরিফাই করতে হবে
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে সংযুক্ত আছে কিনা NPCI পোর্টালে গিয়ে দেখে নিতে হবে
- জমির রেকর্ড ডিজিটালি লিঙ্ক করা আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে
আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
বিশেষকরে গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যাঁদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তাঁরা জানেন এই ২,০০০ টাকা ছোট ও প্রান্তিক কৃষক পরিবারের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে — ফসল বোনা মরশুমে বীজ কেনা, সার কেনা কিংবা ফসল তোলার মরসুমে হাতখরচ চালানোর জন্য এই টাকা অনেকটাই ভরসার জায়গা হয়ে দাড়ায়। তবে একটা কথা না বললেই নয় — eKYC ও আধার সংযুক্তির প্রক্রিয়াটা এখনও গ্রামাঞ্চলের বহু কৃষকের কাছে জটিল হয়ে রয়েছে। সরকার যদি এই প্রক্রিয়াটা আরও সহজ ও স্থানীয় ভাষায় বোধগম্য করে তুলতে পারেন, তাহলে প্রকৃত উপভোক্তারা আরও নির্বিঘ্নে এই সুবিধা পেতে পারেন।
মিলিয়ে এটা বলা যায় যে, কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী কৃষাণ যোজনা সাহায্যকারী স্কিম। এর মাধ্যমে কোটি কোটি কৃষক উপকৃত হয়ে থাকেন।তাই যাতে এই টাকা হাতছাড়া না হয়ে যায় উপরোক্ত কতটি গুলি অবলম্বন করে নিজেকে যাচাই করে নিবেন। যেহেতু আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অফিস তোমার কিস্তির টাকা একাউন্টে ঢুকতে চলেছে।








