মহিলাদের জন্য ‘মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড’! মাসিক ৩,০০০ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি – বাস্তবে কতদূর?
মহিলাদের জন্য মাত্র শক্তি যোজনা, মাস গেলেই পেতে পারেন তিন হাজার টাকা। প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা? কীভাবে আবেদন? জানুন বিস্তারিত
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বরাবর এই মহিলাদের উপর জোর সকলেরই। কেনই বা না, মহিলাদের ভোটের উপর ভিত্তি করে বেশ কয়েকবার সরকার গঠনে সাহায্য করেছে। তাই তো, সকলেই এই মহিলাদের উন্নয়ন নিয়ে ভোট প্রচার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার মধ্যে একটা অন্যতম প্রতিশ্রুতি ঘিরে বর্তমানে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই নতুন প্রতিশ্রুতির নাম হল ‘মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড ‘। মহিলাদের মাসিক ৩,০০০ টাকা দেওয়ার জন্য এই প্রকল্পের কথা বলা হয়েছিল

মূলত যে সমস্ত পরিবারে সংসারের খরচ সামলাতে মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে, তাঁদের কাছে এই প্রকল্প নতুন আশার আলো হয়ে দাড়িয়েছে। বাজারের বাড়তি খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, ওষুধ, বিদ্যুতের বিল—সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারই আর্থিক দিক থেকে চাপে দিন কাটাচ্ছে। সেই জায়গায় দাড়িয়ে মাসে ৩০০০ টাকা সহায়তা সত্যিই বড় স্বস্তি হতে পারে।
মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড কী?
নতুন এই প্রকল্পটি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের আর্থিকভাবে আরও স্বনির্ভর করে তোলার উদ্দেশ্যে আনা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞেদর অনুমান।যদিও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সময় এই প্রকল্পকে প্রথমে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে এই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড’ করা হয় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে চালু থাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের তুলনায় এই স্কিমে দ্বিগুণ আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বহু মহিলা জানতে চাইছেন, তাহলে কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জায়গাতেই আসবে এই নতুন প্রকল্প নাকি নতুন করে আবেদন?
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে নতুন স্কিম?
বর্তমানে এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরছে সোস্যাল মিডিয়ায়। কারণ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসিক ভাতা পেয়ে আসছেন। কিন্তু নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তার কথা বলা হয়েছিল। এর ফলে অনেকের ধারণা, ভবিষ্যতে পুরনো প্রকল্পের পরিবর্তে নতুন স্কিম চালু হতে পারে।
তবে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে এমন কোনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেওয়া হবে বা পরিবর্তন করা হবে। একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট নয় যে, দুই প্রকল্প একসঙ্গে চলবে নাকি নতুন প্রকল্প আলাদা ভাবে আবেদন নেওয়া হবে। তাই এখনই কোনও এক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
কারা পেতে পারেন এই সুবিধা?
যদিও এখনও অফিসিয়াল নির্দেশিকা জারি করা হয়নি, তবুও প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে—
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী মহিলা বাসিন্দা হলে আবেদন করতে পারবেন
- বয়স কমপক্ষে ১৮ বছরের বেশি হতে হবে
- আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে অনুমান
- আধার সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক লাগতে পারে
- DBT-এর মাধ্যমে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হতে পারে
অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ অনেক পরিবারে এখনও মহিলাদের নিজস্ব কোনও স্থায়ী আয়ের সুযোগ নেই। সেখানে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়াতে পারে।
কবে শুরু হবে আবেদন?
সকলের মনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই। বহু মহিলা এদিকে অনলাইনে আবেদন খুঁজতে শুরু করেছেন অনেকেই। কেউ কেউ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশনও করার চেষ্টা করা খুঁজাখুঁজি শুরু করেছেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি।
এদিকে সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, নতুন সরকার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর প্রকল্পটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য নিয়ে আসতে পারে। তারপর অফিসিয়াল পোর্টাল, ক্যাম্প বা স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তরের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হতে পারে।
কী কী নথি লাগতে পারে?
যদিও অফিসিয়াল নোটিশ প্রকাশ হয়নি,তবে অনুমান করা হচ্ছে
- আধার কার্ড
- ভোটার কার্ড বা বাসস্থানের প্রমাণ
- ব্যাঙ্ক পাসবই
- আয় শংসাপত্র
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- মোবাইল নম্বর
তবে এগুলি এখনও নিশ্চিত নয়। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেলে পরিবর্তিত হতে পারে।
ভুয়ো লিঙ্ক থেকে সাবধান!
বর্তমানে বহু ভুয়া সাইটে এই ধরনের আবেদন নিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে সতর্ক থাকা ভালো। কোনরকম অফিসিয়াল আপডেট ছাড়া অন্য কোথাও এর জন্য আবেদন করা উচিত নয়। কেবলমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট অথবা সরকারি আপডেট পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?
মূল্য বৃদ্ধির বাজারে দিনে সব কিছুর দাম বেড়েই চলেছে। ঠিক এই সময় মহিলাদেরও উপর আর্থিক চাপ দেখা দিচ্ছে। তাই এই সময় যদি সরকার কর্তৃক তাদের মাসিক ৩০০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হয় তাহলে বড় উপকৃত হবে তারা। এমনকি যে সমস্ত মহিলা পরিবার সামলাচ্ছেন তাদের জন্য সব থেকে বেশি কার্যকারী হবে।
ভোট প্রচারের আগে যদিও এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন কিন্তু বর্তমানে এখনো পর্যন্ত এই প্রকল্প সম্পর্কে কোনো রকম অফিশিয়াল আপডেট দেওয়া হয়নি। যদি আপনি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়ে থাকেন এবং এই প্রকল্প গুলোর সুবিধা নিতে চান, তাহলে অবশ্যই অপেক্ষা করতে পারেন। নতুন সরকারকে সবকিছু গুছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, হয়তো কিছুদিন পর এই সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আপডেট দেওয়া হতে পারে। তাই পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গে অবশ্যই জুড়ে থাকবেন।


