Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Careerothers

শংকর ঘোষ! শিক্ষকতা থেকে শিক্ষামন্ত্রী। বাম থেকে রাম। জানুন বিস্তারিত

রাজ্যের নতুন শিলিগুড়ি বিধায়ক শংকর ঘোষ। শিক্ষক থেকে বিধায়ক। তার জীবনের গল্প দেখুন

রাজ্য রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে যাঁদের নাম দ্রুত আলোচনায় উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলো ড. শংকর ঘোষ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তিনি এখন অত্যন্ত পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একখানা মুখ। তার শান্ত স্বভাব, শিক্ষিত ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ— এই তিন কারণেই তিনি খুব কম সময়ের মধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

২০২৬ সালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে তিনি বিজেপির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মুখগুলির একজন। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও তাঁর জীবনের আরও একাধিক দিক রয়েছে, যা অনেকের কাছেই এখনও অজানা রয়েছে। শিক্ষকতা, উচ্চশিক্ষা, পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক উত্থান— সব মিলিয়ে ড. শংকর ঘোষের জীবনযাত্রা এখন অনেক তরুণের কাছেই অনুপ্রেরণা হতে চলেছে।

বাঁকুড়া থেকে শুরু পথচলা

ড. শংকর ঘোষের জন্ম ১৯৭৪ সালের ১২ জুন পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে হয়। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর আলাদা আগ্রহ কাজ করে। পাশাপাশি পরিবার থেকেও শিক্ষার পরিবেশ পেয়েছিলেন তিনি।

তাঁর বাবা বিজন কুমার ঘোষ এবং মা পারুল ঘোষ। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা শংকর ঘোষ খুব ছোট বয়স থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করে ফেলে দিয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের সঙ্গে মিশতে ভালোবাসেন তিনি।

উচ্চশিক্ষিত নেতা হিসেবে আলাদা পরিচিতি

যদিও বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে উচ্চশিক্ষিত নেতার সংখ্যা খুব বেশি দেখা যায় না, তবে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ড. শংকর ঘোষের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেককেই চমকে দিচ্ছে।

তার মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে Doctorate in Philosophy (PhD) ডিগ্রি অর্জন করা। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী শংকর ঘোষ দীর্ঘদিন শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছিলেন।এছাড়াও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার উপর তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।

বড় কথা হলো তিনি শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, এর আগে তিনি শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনেও প্রভাব ফেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করছে।

শিক্ষক থেকে রাজনীতিবিদ

তবে একথা স্পষ্ট যে, রাজনীতিতে আসার আগে শংকর ঘোষ মূলত শিক্ষাজগতের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের আগে শিক্ষকতা পেশার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।

এরপর পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে থাকেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন বাম রাজনীতির সঙ্গে থাকার পর ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যুক্ত হন।

যদিও সেই সময় তাঁর দলবদল রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। কারণ উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তিনি ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের একজন পরিচিত মুখ ছিলেন।

রাজ্যে নতুন সরকার! মাসে ৩,০০০ পাবেন বেকাররা? যুবশক্তি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শিক্ষিত মহলে। Yuva Shakti Bharosa Card

শিলিগুড়ি থেকেই রাজনৈতিক উত্থান

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয় শংকর ঘোষকে। সেই নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়ে থাকেন এবং ২০২১ প্রথমবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।

শিলিগুড়ির মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে জয় লাভের পর থেকেই দলের ভিতরে তাঁর গুরুত্ব দ্রুত বাড়তে থাকে। উত্তরবঙ্গে সংগঠন শক্তিশালী করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন জানা যায়।

এরপর দিনে দিনে তিনি আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের সমস্যার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে থাকেন। রাস্তা, পানীয় জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য— বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁকে সক্রিয়ভাবে কাজ করা শুরু করে।

পরিবারকে সমান গুরুত্ব দেন

তিনি শুধু নেতা নয়, এত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন ড. শংকর ঘোষ। তাঁর স্ত্রীর নাম সুদীপা চৌধুরী। তাঁদের পুত্র সন্তান হল শ্রেয়াস ঘোষ।

এদিকে ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রাজনৈতিক জীবনের বাইরে তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতে পছন্দ করে থাকেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া এবং ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করতেও তিনি খুব ভালোবাসেন ।তার এই স্বভাব আজকের উন্নতির কারন বলেছেন অনেকেই।

উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ

আমরা সকলে জানি, বর্তমানে উত্তরবঙ্গের বিজেপি রাজনীতিতে শংকর ঘোষ অন্যতম পরিচিত একখানা নাম। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলক বেশি বলে সোস্যাল মিডিয়াতে লাইক প্রচুর।

বড় কথা হলো, বিজেপির অন্যান্য কর্মীদের থেকে তাঁর বক্তব্যে যুক্তি এবং তথ্যের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এই কারণেই তিনি অন্য অনেক নেতার থেকে বেশ কিছুটা আলাদা হয়েছেন।

তরুণ প্রজন্মের কাছে কেন জনপ্রিয়?

যদিও বর্তমান সময়ে বহু তরুণ রাজনীতিকে শুধুই সংঘর্ষ বা বিতর্কের জায়গা মনে করেন। কিন্তু শংকর ঘোষের মতো শিক্ষিত ও শান্ত স্বভাবের নেতারা সেই ধারণাকে কিছুটা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।

একজন শিক্ষক থেকে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠা, এই জীবনের গল্প অনেক ছাত্রছাত্রী এবং চাকরিপ্রার্থীর কাছেই অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের তরুণদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে।

BD Team

আমি দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করছি। দৈনন্দিন বিভিন্ন খবরের পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ইনকাম, স্কলারশিপ সহ বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল লেখালেখি করছি। তাই আমাদের সঙ্গে থাকুন, সাপোর্ট করুন।

Related Articles

Back to top button