রাজ্যে নতুন সরকার! মাসে ৩,০০০ পাবেন বেকাররা? যুবশক্তি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শিক্ষিত মহলে। Yuva Shakti Bharosa Card
বেকারদের জন্য ভোটের আগে বিশেষ প্রতিশ্রুতি। নতুন সরকার গঠন হলেই বেকাররা কি পাবেন তিন হাজার টাকা প্রতি মাসে? আজকের এই প্রতিবেদনের আলোচনা দেখে নিন।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের ফলাফল বের হতে নতুন এক আলোচনা শুরু হয় যুবক-যুবতী মহলে। কেননা ক্ষমতা আসার আগেই বিজেপির তরফে বেশ কিছু প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল তার মধ্যে একটি হলো যুবশক্তি ভরসা কার্ড। এই প্রকল্প এই কারণেই বেশি আলোচিত কারণ যুব সাথী প্রকল্পকে টেক্কা দিয়ে এই অভিনব প্রকল্পের সূচনা হওয়ার কথা। সব থেকে বড় কথা হলো প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পাবেন বেকার যুবক-যুবতীরা।
এবার সকলের মাথায় একটাই প্রশ্ন কিভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে নাকি যুব সাথী প্রকল্পের উপভোক্তারায় এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। নতুন করে আবেদন করতে হবে কিনা। অথবা যোগ্যতার কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা। আসুন এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক –
কী এই যুবশক্তি ভরসা কার্ড?
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি দাবি করেছিল যে, রাজ্যে সরকার গঠন হলে বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সুরক্ষার জন্য নতুন প্রকল্প শুরু করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সামনে আসে বিশেষ আলোচিত ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল—
যতদিন পর্যন্ত চাকরি না মিলছে, ততদিন বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক ৩,০০০ আর্থিক সাহায্য প্রদান করা।
এই ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলার প্রত্যেক যোগ্য প্রার্থীকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।
আগে কত টাকা মিলত?
আমরা সকলে জানি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চালু করে Yuva Sathi Scheme প্রকল্প। সেখানে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়া হয়।
তবে অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন যে—
- অনেকে আবেদন করেও টাকা পাননি
- অনেকের ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হয়নি
- বহু অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা ক্রেডিট হয়না
এবার সেই টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বিজেপির প্রচারে।
কবে থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে পারে?
এটাই এখন সকলের কাছল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা যায় ,আগে মে মাসে নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। তাই মে মাসে নতুন করে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম।
তবে জুন বা জুলাই মাস থেকেই নতুন প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর কদমে আলোচনা চলছে।
অর্থাৎ সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জুন মাস থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে ঢুকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
কোন অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে?
অনেকের মনে প্রশ্ন নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লাগবে কি না।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, যারা আগে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পেতেন, তাঁদের সেই পুরনো অ্যাকাউন্টেই টাকা পাঠানো হতে পারে তবে এখনো স্পষ্ট নয়।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি ভাবে প্রকাশ হলে সব পরিস্কার হবে।
নতুন করে আবেদন করতে হবে?
হ্যাঁ, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—
পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী—
- নতুন আবেদন নেওয়া হতে পারে যদি যুবসাথী প্রকল্পকে মান্যতা না দেয়
- আবার নতুন করে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন হবে
- পুনরায় যোগ্যতা যাচাই করা হবে
- শেষে অনুমোদিতদের টাকা দেওয়া হবে
অর্থাৎ আগে যুবসাথীর সুবিধা পেলেও নতুন প্রকল্পে আবার আবেদন করে এই নতুন প্রকল্পে টাকা দেওয়া হতে পারে।
কারা এই সুবিধা পেতে পারেন?
যদিও সরকারি ভাবে এখনও বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে যা মনে করা হচ্ছে—
সম্ভাব্য যোগ্যতা:
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
- অবশ্যই বেকার যুবক বা যুবতী
- পাশাপাশি নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে থাকতে হবে
- প্রার্থীর বৈধ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে
- আধার ও মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকতে পারে
কী কী নথি লাগতে পারে?
নতুন আবেদন শুরু হলে সম্ভাব্য যেসব ডকুমেন্ট লাগতে পারে—
- আধার কার্ড
- ভোটার কার্ড
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট বা মার্কশিট
- বেকারত্ব সংক্রান্ত ঘোষণা পত্র
- ব্যাঙ্ক পাসবুক
- চালু মোবাইল নম্বর
কেন এই প্রকল্প নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে ?
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে চাকরি ও কর্মসংস্থান বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাড়িয়েছে। বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় বেকারত্বে ভুগছেন।
এই পরিস্থিতিতে মাসিক ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা অনেক বেকারের জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে।
বিশেষ করে—
- বর্তমানে চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীরা
- গ্রামীণ এলাকার বেকার যুবক যুবতীরা
- নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকাররা
এই সমস্ত উপভোক্তা এই প্রকল্প থেকে সরাসরি উপকৃত হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু ভাতা নয়, কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও
এদিকে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছিল যে, শুধু ভাতা দেওয়াই নয়—নতুন কর্মসংস্থান তৈরির দিকেও জোর দিতে চাই তারা।
এর পাশাপাশি রাজ্যে শিল্প, কর্মসংস্থান ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন বহু জনসভায়।
তবে এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হচ্ছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আবেদন করার আগে কী মাথায় রাখবেন?
যখনই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে, তখন কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা সকলের জন্য জরুরি—
- আবেদনে ভুল তথ্য দেবেন না
- সব ডকুমেন্ট আপডেট রাখবেন
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে লিঙ্ক আছে কিনা দেখে নিবেন
- মোবাইল নম্বর সক্রিয় রাখতে হবে
- সরকারি ঘোষণা ছাড়া আবেদন বা কোনো প্রতারণা লর ফাঁদে পড়বেন না
নতুন রাজ্য সরকার গঠনের পর সকল বেকার যুবক-যুবতীদের চোখ থাকবে এই নতুন প্রকল্পের উপর। কেননা বেকাররা যেহেতু মাসে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন, কাজেই এই প্রকল্প সকলের আগ্রহ জাগাবে। তবে এখন দেখার বিষয় কবে থেকে এই প্রকল্প লাভ করা হচ্ছে? কতটা প্রতিশ্রুতি রাখছে নতুন সরকার?



