EWS সার্টিফিকেটের জন্য কারা যোগ্য? কীভাবে করবেন আবেদন, রইল সমস্ত তথ্য

By Razz

Published on:

বর্তমানে সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণ পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকেই এখন EWS Certificate তৈরি দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা যোগ্য প্রার্থীদের জন্য EWS সংরক্ষণ বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই সার্টিফিকেট কীভাবে পাবেন, কারা আবেদন করতে পারবেন এবং পরিবারের আয় কত হলে EWS-এর জন্য যোগ্য হবেন, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই এখনও ধোঁয়াশা দেখা যাচ্ছে। তাই আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন EWS Certificate নিয়ে বিস্তারিত তথ্য।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক EWS Certificate আসলে কী

EWS-এর পুরো নাম Economically Weaker Section। মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সংরক্ষণ আনা আনা হয়েছে। তবে শুধু পরিবারের আয় কম হলেই যে EWS Certificate পাওয়া যাবে, তা সরাসরি ঠিল নয়। পরিবারের আয় ছাড়াও জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য সম্পত্তির বিষয়ও বিবেচনা করা হয়। তাই আবেদন করার আগে যোগ্যতার সমস্ত শর্ত ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

এবার আসা যাক EWS Certificate-এর যোগ্যতার বিষয়ে

কেন্দ্রীয় EWS-এর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। তবে এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। পরিবারের কাছে নির্দিষ্ট সীমার বেশি কৃষিজমি থাকলে, নির্দিষ্ট আয়তনের বেশি ফ্ল্যাট থাকলে অথবা নির্দিষ্ট সীমার বেশি আবাসিক জমি থাকলে EWS-এর জন্য অযোগ্য হতে পারেন। অর্থাৎ শুধু আয় কম হলেই হবে না, পরিবারের সম্পত্তির হিসাবও নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে।

অনেকের মধ্যে আরও একটি প্রশ্ন রয়েছে—বাড়ি বা জমি থাকলে কি EWS Certificate করা যাবে না? আসলে বাড়ি বা জমি থাকা মানেই আপনি অযোগ্য, এমন বিষয় নয়। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সম্পত্তি থাকলে নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা থাকতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের মানদণ্ডে পরিবারের ৫ একরের বেশি কৃষিজমি থাকলে অযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়ে থাকে। একইভাবে আবাসিক ফ্ল্যাট ও জমির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। তাই নিজের পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ দেখে তারপর আবেদন করা দরকার।

এবার আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে। EWS Certificate থাকলে কী সুবিধা পাওয়া যায়? কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় এমনকি রাজ্যেও EWS শ্রেণির জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ কোনও সরকারি চাকরির নিয়োগ বা নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়ায় EWS সংরক্ষণ প্রযোজ্য থাকলে যোগ্য প্রার্থীরা সেই সংরক্ষিত আসনের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। যার ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা যোগ্য প্রার্থীরা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

তবে এখানে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন। EWS Certificate থাকলেই সরাসরি সরকারি চাকরি কিন্তু মিলবে না বা কলেজে ভর্তি নিশ্চিত হয়ে যাবে না। পাশাপাশি আপনাকে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সমস্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং পরীক্ষায় বা ভর্তি প্রক্রিয়ায় সফল হতে হবে। EWS Certificate মূলত আপনাকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য করে।

এবার মূল্যবান প্রশ্ন হচ্ছে OBC বা অন্য কোনও ক্যাটাগরির প্রার্থী হলে কি EWS Certificate করা যাবে? এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই বহু ভুল ধারণা রয়েছে। শুধু পরিবারের আয় ৮ লক্ষ টাকার কম হলেই কোনও সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থী EWS হয়ে যাবেন—এমন কিন্তু নয়। কেন্দ্রীয় EWS ব্যবস্থায় SC, ST এবং OBC সংরক্ষণের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের EWS সুবিধা থেকে সাধারণভাবে বাদ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে রাজ্য এবং নির্দিষ্ট নিয়োগ বা ভর্তি প্রক্রিয়ায় নিয়ম কী রয়েছে, সেটি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত হতে হবে।

এবার জেনে নেওয়া যাক EWS Certificate কীভাবে আবেদন করবেন

পশ্চিমবঙ্গে EWS Certificate-এর জন্য অনলাইন মাধ্যমে আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালে (Cast Certificate) গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় নাম, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতে পারে। রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হলে একটি Application বা Acknowledgement Number দেওয়া হবে। এই নম্বরটি অবশ্যই সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।

এরপর সেই রেজিস্ট্রেশন বা লগইন সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে আবেদনপত্র খুলতে হবে। সেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি পরিবারের আয়, ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য পূরণ করতে হবে। যেসব তথ্য দেওয়া হবে, সেগুলি অবশ্যই আপনার নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে। কারণ পরবর্তী সময়ে এই তথ্য যাচাই করা হতে পারে।

এরপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নির্দিষ্ট ফরম্যাট ও সাইজ অনুযায়ী আপলোড দিতে হবে। কোন কোন নথি লাগবে, তা আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে দেওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী দেখে নিতে হবে। সাধারণভাবে পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ, আয় সংক্রান্ত নথি, জমি বা সম্পত্তির তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

সব তথ্য ঠিকঠাক দেওয়ার পরেই Final Submit করতে হবে। তবে Submit করার আগে একবার নয়, ভালোভাবে সমস্ত তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। যেমন -নামের বানান, জন্মতারিখ, ঠিকানা, পরিবারের আয় এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে কোনও ভুল রয়েছে কি না দেখে নিন। কারণ একবার আবেদন জমা দেওয়ার পরে ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

এরপর শুরু হবে আপনার আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। অনলাইনে আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে EWS Certificate হাতে পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপনার দেওয়া তথ্য এবং জমা করা নথি যাচাই করবে। প্রয়োজন হলে আপনাকে নির্দিষ্ট সরকারি দপ্তরে গিয়ে নথি জমা দিতে হবে বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিয়ম অনুযায়ী BDO, SDO বা অনুমোদিত অন্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হয়ে থাকে। তাই আবেদন করার পরে সরকারি পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনও নির্দেশ দেওয়া হলে সেটি দেখে নিতে হবে। আপনার নথিপত্র এবং তথ্য সঠিক থাকলে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর EWS Certificate ইস্যু করা হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, EWS Certificate করার সময় কোনও তথ্য লুকিয়ে বা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করা যাবে না। পরিবারের আয় বা সম্পত্তির বিষয়ে ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে নথি যাচাইয়ের সময় সমস্যা তৈরি হবে। তাই আবেদন করার আগে পরিবারের সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং নথি হাতে নিয়ে তারপর ফর্ম পূরণ করা সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ।

আর একটি বিষয় মাথায় রাখবেন, কেন্দ্রীয় সরকারের EWS নিয়ম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্প বা নিয়োগের নিয়ম এক নাও হতে পারে। আপনি যদি কোনও সরকারি চাকরির পরীক্ষা, কলেজে ভর্তি বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় EWS সংরক্ষণ পেতে চান, তাহলে সেই নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে EWS সংরক্ষণ কীভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে তা দেখে নেওয়া জরুরি।

অর্থাৎ EWS Certificate আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু তার আগে আপনাকে যোগ্যতার সমস্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। পরিবারের আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকা, সম্পত্তির নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য হওয়া—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment