আমরা ইতিমধ্যে সকলেই জেনে গিয়েছি রাজ্যে বেকারদের জন্য আসছে যুবশক্তি ভরসা কার প্রকল্প।এখানে বেকার যুবক যুবতীরা মাসে ২০০০ অথবা ৩০০০ টাকা পেয়ে পেতে পারেন। কিন্তু এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে গেলে আপনাকে বেশ কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। যোগ্যতার যে সমস্ত শর্ত রয়েছে তা পূরণ করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডকুমেন্টসও থাকতে হবে।
এখন মূল প্রশ্ন, এই প্রকল্পে আবেদন করতে গেলে কী কী নথি লাগবে? ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত আবেদন নির্দেশিকা ও সমস্ত নথির তালিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অক্টোবর থেকে মিলতে পারে যুবশক্তির টাকা
‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ নিয়ে আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেট সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে প্রকল্পটি চালু হতে পারে। তবে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন শুরুর নির্দিষ্ট দিন এবং চূড়ান্ত অনলাইন পোর্টাল সম্পর্কে সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখনই কোনও অচেনা ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করার চেষ্টা না করাই ভালো।
মাসে ২ হাজার না ৩ হাজার টাকা?
এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য স্নাতক বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে, নন-গ্র্যাজুয়েট বা অন্যান্য যোগ্য বেকারদের জন্য মাসে ২ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সকল আবেদনকারী একই পরিমাণ টাকা পাবেন—এমনটা নয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চূড়ান্ত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হতে পারে।
আবেদন করতে ৮টি নথির কথা বলা হয়েছে
প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুবশক্তি ভরসা কার্ডের আবেদন করতে ৮টি প্রয়োজনীয় নথির কথা বলা হয়েছে। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার—সরকারের চূড়ান্ত আবেদন নির্দেশিকায় নথির তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব নথির কথা সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীর ছবি, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, জন্মের প্রমাণপত্র, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র।
অন্যদিকে, আরও সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে ডিগ্রি সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আবেদন সংক্রান্ত পূর্ণ নথির তালিকা এখনও সরকারিভাবে প্রকাশিত হয়নি।
তাই আবেদন শুরু হওয়ার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত কাগজপত্র, পরিচয়পত্র এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য হাতের কাছে রাখা সুবিধাজনক হতে পারে।
ডিগ্রি সার্টিফিকেট নিয়ে কেন এত আলোচনা?
যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে গত কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি সার্টিফিকেট বা প্রভিশনাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
কারণ, স্নাতক বেকারদের জন্য ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব থাকায় আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। সেই কারণেই আগে থেকে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তবে ডিগ্রি সার্টিফিকেটের বদলে কোন নথি গ্রহণ করা হবে, প্রভিশনাল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য কি না বা অনলাইনে কীভাবে নথি আপলোড করতে হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
কারা এই সুবিধা পেতে পারেন?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সসীমার বেকার যুবক-যুবতীদের এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী বেকারদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের মাসিক আয় সংক্রান্ত একটি সীমার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে যোগ্যতার প্রতিটি শর্ত, বয়স গণনার তারিখ, পরিবারের আয়ের প্রমাণ এবং অন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া থাকলে আবেদন করা যাবে কি না—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কারণ, বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে যোগ্যতার ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তাই শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা কোনও অননুমোদিত ওয়েবসাইটের তথ্য দেখে আবেদন করা ঠিক হবে না।
এখন থেকেই কী কী প্রস্তুত রাখবেন?
যাঁরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করার কথা ভাবছেন, তাঁরা আপাতত নিজের প্রয়োজনীয় নথিগুলি গুছিয়ে রাখতে পারেন।
আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জন্মের প্রমাণপত্র, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট বা সার্টিফিকেট, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ছবি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা যেতে পারে।
বিশেষ করে স্নাতক আবেদনকারীদের ডিগ্রি সার্টিফিকেট বা প্রভিশনাল সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এগুলি প্রস্তুত রাখা আর এখনই অনলাইনে আবেদন করা এক বিষয় নয়। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত আবেদন প্রক্রিয়া ও সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে এখনও অপেক্ষা রয়েছে।
কবে খুলবে আবেদন পোর্টাল?
প্রাথমিকভাবে অক্টোবর থেকে প্রকল্প চালুর কথা সামনে এসেছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলেও কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী প্রতিবেদনে অক্টোবর থেকে প্রকল্প চালুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
ফলে আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে সরকারি পোর্টাল এবং বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা। আবেদন শুরু হলে সেখানে যোগ্যতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি, বয়সসীমা, পরিবারের আয়, আবেদন পদ্ধতি এবং টাকা পাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ভুল ওয়েবসাইটে তথ্য দেবেন না
যেহেতু সরকার করতে কোনরকম আপডেট জারি করা হয়নি, তাই গুগলে দেখা যাচ্ছে অনেক রকম ফেক সাইট তৈরি করা হয়েছে। আপনি এরকম কোন সাইটে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিবেন না। সরকার কর্তৃক যে অফিসিয়াল সাইটে আবেদন করতে বলবেন সেই সাইটে কেবল আবেদন করবেন।








