পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর লক্ষ লক্ষ মহিলার মনে একটাই প্রশ্ন কবে তারা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন? সাধারণত প্রতিমাসে ১০ তারিখের মধ্যেই লক্ষীর ভান্ডারের টাকা ক্রেডিট হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সরকার পরিবর্তন হওয়ায় এখনো পর্যন্ত ভান্ডারের টাকা ক্রেডিট হয়নি। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠন করে ৯ই মে। এরপর এখনো পর্যন্ত সরকার করতে কোনো রকম ছাড়া মেলেনি। কবে নাটক পাবে লক্ষ্মীর ভান্ডার এর চেয়ে ১৫০০ নাকি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাধ্যমে ৩০০০ টাকা পাবে?

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প
২০২১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শুরু হয় জনমুখী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। শুরুর সময় সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মহিলারা ১০০০ টাকা করে পেয়ে এসেছেন। তা পরে সেই ভাতা বাড়িয়ে যথাক্রমে ১০০০ এবং ১২০০ টাকা করা হয়ে থাকে। এমনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই টাকার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে যথাক্রমে ১৫০০ এবং ১৭০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়।
তাই এই প্রকল্প বাংলার বহু পরিবারের কাছে শুধুমাত্র একটি সরকারি ভাতা নয়, বরং সংসারের মাসিক খরচ সামলানোর বড় ভরসা। বাজার খরচ থেকে শুরু করে ওষুধ সঙ্গে সন্তানদের পড়াশোনা কিংবা ছোটখাটো ব্যক্তিগত প্রয়োজন—সব ক্ষেত্রেই এই টাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকত। তাই সরকার বদলের পর লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন জাগছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কী
যদিও বিজেপি সরকার গঠনের আগে নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নামে নতুন প্রকল্প শুরু করবে। শুধু তাই নয়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তুলনায় দ্বিগুণ অর্থাৎ মাসে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন। সেই কারণেই অনেকে মনে করছেন, পুরনো প্রকল্পের জায়গায় নতুন প্রকল্প আনা হতে পারে
তবে এখনও পর্যন্ত নতুন সরকারের তরফে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প কবে শুরু, কীভাবে আবেদন করতে হবে বা কারা এই সুবিধা পেতে পারেন—তা নিয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এর ফলে মহিলাদের একাংশের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবপ অনেকেই জানতে চাইছেন, মে মাসের টাকা কি পরে একসঙ্গে দেওয়া হতে পারে নাকি এই প্রকল্প সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে?
কবে পেতে পারেন ৩,০০০ টাকা
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক স্তরে নড়েচড়ে বসতে কিছুটা সময় লাগে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। সেই কারণেই এই মাসে টাকা পাঠাতে হইতো দেরি হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধের কোনো ঘোষণা করা হয়নি। এর ফলে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, নতুন সরকারের প্রথম বৈঠক থেকেই কেন্দ্রীয় প্রকল্প দ্রুত চালুর উপর জোর দেওয়া হবে। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত, জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, যুবশক্তি প্রকল্পের মতো একাধিক প্রকল্প ধাপে ধাপে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তাই অনেকের ধারণা, রাজ্যের পুরনো কিছু প্রকল্পে কিছুটা পরিবর্তন করতে পারে।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনপ্রিয় প্রকল্প হঠাৎ পুরোপুরি বন্ধ করা সহজ বিষয় নয়। কারণ এই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন রাজ্যের কোটি কোটি মহিলা ভোটার। তাই ভবিষ্যতে হয়তো নতুন নামে বা নতুন কাঠামোয় এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা চালু করা হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে সরকারি ঘোষণা ছাড়া কোনও তথ্যকে চূড়ান্ত বলে ধরা ঠিক হবে না।
গ্রামাঞ্চলের একান্ত ভরসা
এদিকে গ্রামাঞ্চল থেকে শহর—সব জায়গাতেই এখন এই লক্ষীর ভান্ডার নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন,কিছুদিনের মধ্যেই টাকা ঢুকে যাবে। আবার কেউ মনে করছেন, খুব দ্রুত নতুন প্রকল্পের অধীনে আবেদনও চালু হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমেও এই নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট ও ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হচ্ছে। তবে সব তথ্য যে সত্যি, এমনটা কখনো নয়। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোনও গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
যুবসাথী না যুব শক্তি প্রকল্প
একই সঙ্গে বেকার যুবক-যুবতীদের যুবসাথীর বদলে জন্য মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। এই নতুন ‘যুবশক্তি’ প্রকল্প নিয়েও ইতিমধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক মাসে রাজ্যের একাধিক সামাজিক প্রকল্পে বড় পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, মে মাসে সত্যিই কি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা ঢুকবে, নাকি খুব শীঘ্রই নতুন কোনও প্রকল্পের মাধ্যমে আরও বড় আর্থিক সহায়তা আসতে পারে। বাংলার কোটি কোটি মহিলা এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।



