অন্নপূর্ণা টাকা পাননি? আপনার জন্য বিশেষ বার্তা মূখ্যমন্ত্রীর – WB Govt On Annapurna Allowance

By Razz

Published on:

কেন্দ্র সরকার মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ গোটা দেশজুড়ে বিজেপির মাসব্যাপী “সেবা সংকল্প অভিযান” শুরু করা হল, আর সন্ধ্যায় রাজ্যে রাজ্যে জ্বলবে “আশীর্বাদের প্রদীপ”। এই বিশেষ দিনেই পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি আরও জানান, প্রতিবছর মোদির জন্মদিনকে এখন থেকে “অন্নপূর্ণা দিবস” হিসেবে পালন করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, শুধু অনুষ্ঠানস্থলেই প্রায় ৬০ হাজার অন্নপূর্ণা উপভোক্তা উপস্থিত ছিলেন না, রাজ্যের প্রায় ৫০০টি জায়গা থেকে আরও কয়েক লক্ষ উপভোক্তা ভার্চুয়ালি এই কর্মসূচিতে যুক্ত আছেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন নিজে না করে তিনি জ্যোতির্ময়ী শিকদার, সোমা বিশ্বাসের মতো প্রকল্পের উপভোক্তাদের হাতেই সেই দায়িত্ব তুলে দিয়ে থাকেন — যা রাজনৈতিক প্রতীকীতার দিক থেকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত।

আর এদিন সবচেয়ে বড় খবর অবশ্য আর্থিক পরিসংখ্যানে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজকের দিনেই দেড় কোটিরও বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গেছে বলে দাবি সরকারের। যাঁরা আবেদন করেও এখনও টাকা পাননি, তাঁদের সবার অ্যাকাউন্টে সারাদিন ধরে ধাপে ধাপে টাকা ট্রান্সফার সম্পন্ন হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মূখ্যমন্ত্রী।

এই ঘোষণার পাশাপাশি মূখ্যমন্ত্রীর গত চার মাসের বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। মহিলাদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা রুখতে একটি পৃথক কমিশন গঠনের কথা জানিয়েছেন তিনি, সঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান — এই ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এছাড়া আইসিডিএস আশাকর্মীদের বেতন গত মাস থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

গত ১৪ অগাস্ট কন্যা রত্ন দিবসে রাজ্যের ২০ লক্ষ ১৩ হাজার কন্যাসন্তানের অ্যাকাউন্টে পড়াশোনার জন্য ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৭ সালে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকের পর স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করা ছাত্রীদের জন্য নতুন একটি বৃত্তি প্রকল্পের কথাও জানান তিনি — তিন বছরে যথাক্রমে ১৭ হাজার, ১৭ হাজার ও ১৬ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ৫০ হাজার টাকা, যা ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে চালু করা হবে।

এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর একটি মন্তব্যও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী — রাজ্যে ৫০ লক্ষেরও বেশি নতুন বাড়ি তৈরির তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে, এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় তৈরি হওয়া এই বাড়িগুলির মালিকানা থাকবে  বাংলার মহিলাদের নামেই।

সব মিলিয়ে দেখতে গেলে, একদিনে এত বেশি সংখ্যক ঘোষণা আর আর্থিক হিসেব একসঙ্গে সামনে আসা কোনো সহজ ব্যাপার নয়। তবে প্রকল্পের সুবিধা সত্যিই কতজনের কাছে ঠিকঠাক পৌঁছাচ্ছে, তা যাচাই করাটাও একইসঙ্গে জরুরি হয়ে দাড়িয়েছে — কারণ ঘোষণা আর বাস্তবায়নের মধ্যে ফারাক থেকেই যায় অনেক সময়। আগামী দিনে টাকা ট্রান্সফারের প্রকৃত অগ্রগতি নিয়ে নজর রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।

Leave a Comment